হোম / জরিপ

জরিপ: সিএস থেকে ডিজিটাল জরিপ

কোন জরিপ কবে, কীভাবে হয়েছে। নতুন বিডিএসে কী হবে আর আপনার কী কী লাগবে।

চার জরিপের পরিচয়

সময় জেলাভেদে আলাদা। নিচে মোটামুটি ধারণা দেওয়া হলো।

জরিপকবে ও কার আমলেকীভাবে চিনবেনকেন গুরুত্বপূর্ণ
সিএস
ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে
ব্রিটিশ আমল, আনুমানিক ১৮৮৮–১৯৪০খতিয়ানে জমিদার ও প্রজার নাম থাকেজমির আদি মালিক ও স্বত্বের মূল উৎস
এসএ
স্টেট একুইজিশন সার্ভে
পাকিস্তান আমল, ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেখতিয়ানে সাবেক (সিএস) নম্বর ও হাল নম্বর থাকেজমিদারি বিলোপের পর প্রজার নামে রেকর্ড
আরএস
রিভিশনাল সার্ভে
বাংলাদেশ আমল, ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত, কোথাও আরও পরেউপরে ডানে রি-সার্ভে নম্বর, হাতে লেখাবহু এলাকায় সর্বশেষ জরিপ, নামজারির ভিত্তি
বিআরএস
বাংলাদেশ রিভিশনাল সার্ভে
১৯৯০-এর দশক থেকে ধাপে ধাপেকম্পিউটারে ছাপা খতিয়ানআরএসের পর হালনাগাদ রেকর্ড
ঢাকা মহানগরে হয়েছে সিটি জরিপ। কোনো এলাকায় একটি জরিপ বাদ পড়তে পারে, তাই জরিপের ধারা এলাকা ধরে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

জরিপ কীভাবে হয়

  1. ট্র্যাভার্সজরিপ দল সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে এলাকার ভিত্তি মাপ নেয়।
  2. কিস্তোয়ারপ্রতিটি দাগ মাঠে মেপে নকশায় আঁকা হয় ও দাগ নম্বর বসে।
  3. খানাপুরী ও বুঝারতআমিন প্রতিটি দাগে গিয়ে মালিকের নাম, দলিল ও দখল যাচাই করেন, খতিয়ানে লেখেন।
  4. তসদিককানুনগো বা রাজস্ব কর্মকর্তা সব কাগজ ও প্রমাণ মিলিয়ে খতিয়ান যাচাই করেন।
  5. খসড়া প্রকাশ, আপত্তি ও আপিলখসড়া খতিয়ান প্রকাশের পর ভুল থাকলে নির্ধারিত ফরম ও কোর্ট ফি দিয়ে আপত্তি করা যায়। শুনানির পর রায়ে সংশোধন হয়। অসন্তুষ্ট হলে আপিল করা যায়। শেষে চূড়ান্ত প্রকাশ।

নতুন জরিপ: বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস)

প্রচলিত জরিপ প্রায় প্রতি ২৫ বছরে হতো। বিডিএস পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতির জরিপ।

কী কী হবে

  • ড্রোন, জিএনএসএস ও আধুনিক যন্ত্রে নির্ভুল মাপ
  • দাগভিত্তিক ডিজিটাল মানচিত্র ও ডিজিটাল রেকর্ড
  • জমির আকার, অবস্থান, ব্যবহার ও শ্রেণি একসাথে সংরক্ষণ
  • জমির তথ্য নামজারির ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে যুক্ত

এখন কোথায় চলছে

প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী সিটি, মানিকগঞ্জ পৌর এলাকা, ধামরাই ও কুষ্টিয়া সদরে কাজ হয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সারা দেশে ডিজিটাল জরিপ চালুর সমঝোতা স্মারক সই করেছে। আপনার এলাকায় কবে, স্থানীয় ভূমি অফিসের নোটিশ দেখুন।

বিডিএসের জন্য কী কী কাগজ লাগবে

কাগজপত্র

  • মূল দলিল ও বায়া দলিল
  • সিএস, এসএ, আরএস, বিআরএস খতিয়ানের কপি
  • নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর
  • খাজনার সর্বশেষ দাখিলা
  • ওয়ারিশান সনদ (উত্তরাধিকার হলে)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি, মোবাইল নম্বর
  • আদালতের রায় বা বণ্টননামা, থাকলে

নিজের প্রস্তুতি

  • নোটিশের তারিখে জমিতে নিজে বা প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা
  • আল ও সীমানা চিহ্ন ঠিক রাখা, প্রতিবেশীকে জানানো
  • প্রবাসী হলে আম-মোক্তারনামা দিয়ে প্রতিনিধি ঠিক করা
  • খসড়া খতিয়ান বের হলে নাম, দাগ, পরিমাণ মিলিয়ে দেখা
  • ভুল পেলে সময়মতো আপত্তির আবেদন করা
এটি সাধারণ প্রস্তুতির তালিকা। কোন এলাকায় কোন কাগজ চাওয়া হবে, তা জরিপ অফিসের নোটিশ অনুযায়ী ঠিক হয়।

জরিপের আগে কাগজ সাজিয়ে রাখুন

দলিল-খতিয়ান মিলিয়ে ভুল আগেই ধরে দিই, আপত্তির আবেদনেও পাশে থাকি।